মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে

  উত্তরবঙ্গের প্রবেশদারখ্যাত শাহ সুলতান বলখী মাহী  সাওয়ার (র:) বিজিত পুরাকীর্তি ও প্রাচীনত্ত্ব বিজরিত বগুড়া জেলা বাংলাদেশের একটি প্রাচীন এবং উল্লেখ যোগ্য জেলা।  গণ মানুষের সংস্কৃতি চর্চা, মেধা-মনন ও জ্ঞানের বিকাশ এবং বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে অনেক সুনামধন্য এবং বাংলাদেশের চারটি প্রাচীনতম গ্রন্থাগারের একটি উডবার্ণ সরকারি গণগ্রন্থগার। বগুড়া শহরের প্রাণ কেন্দ্র পৌর এ্যাডওয়ার্ড পার্ক এর দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে ঐতিহাসিক এ গণগ্রন্থাগার অবস্থিত।

 

    বগুড়া জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়। শুরুতে এ গণগ্রন্থাগার ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে ২৭/০৬/১৯৯৬ খ্রি. তারিখে বগুড়াস্থ ঐতিহ্যবাহী উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরিকে সরকারিকরণ বিষয়ে একটি আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া পৌর উদ্যানে অবস্থিত উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরির দোতলা ভবন ও জায়গা গ্রহণের বিনিময়ে পৌর উদ্যানের দক্ষিণ-পশ্চিমে লাইব্রেরির নতুন ভবন নির্মানের জন্য ০.৪০ একর জায়গা প্রদানের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তীতে সেখানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নতুন চারতলা ভবন নির্মান হয় এবং জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সাথে উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি একীভূত হয়ে নতুন নামকরণ করা হয় উডবার্ণ সরকারি গণগ্রন্থাগার।

 

   প্রাচীন ইতিহাসঃ পুরাতন উডবার্ণ পাবলিক লাইবেরি ১৮৫৪ সালে জেলার খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টা ও সহায়তায় মি. রয়েল উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর বগুড়ার নবান সৈয়দ আবদুস সোবহান চৌধুরী লাইব্রেরির জন্য একটি নতুন ভবন নির্মান করেন। ১৯০৮ সালে মি. জে.এন গুপ্ত জেলা কালেক্টর তদানীন্তন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্ণর স্যার জন উডবার্ণের নামানুসারে এই লাইব্রেরির  নামকরণ করেন উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি। ঐতিহ্যবাহী এই লাইব্রেরিতে অনেক জ্ঞানীগুনী ও কবি সাহিত্যিকদের পদচারণা রয়েছে। ১৯৪৭ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর বড় ভাই শরৎ চন্দ্র বসু, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি কিরণ শংকর দাস এর মত মহান ব্যক্তিদের পায়ের চিহ্ন রয়েছে উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরিতে।

 

   উডবার্ণ সরকারি গণগ্রন্থাগার বর্তমানে বগুড়া জেলার একটি সমৃদ্ধিশালী জ্ঞান ভান্ডার হিসাবে পরিচিত। ২০০৪ সালে নির্মিত চারতলা ভবনে  উডবার্ণ সরকারি গণগ্রন্থাগার পরিচালিত হয়। পৌর এ্যাডওয়ার্ড পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে সাবেক বাংলা স্কুলের উত্তরে ও সেউজগাড়ী পানির ট্যাংকির পূর্বে এ গণগ্রন্থাগারের অবস্থান। নতুন ও পুরান মিলে এ গণগ্রন্থাগারের পুস্তক সংখ্যা বর্তমানে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার)। শনিবার হতে বুধবার পর্যন্ত সপ্তাহে মোট ০৫ (পাঁচ) দিন সকাল ১০.০০ ঘটিকা হতে সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বৃহস্পতি ও শুক্রবার। এখানে দৈনিক পত্রিকা ১৪টি, সাপ্তাহিক ০৪টি, পাক্ষিক ০২টি, মাসিক ০৬টি, ত্রৈমাসিক ০৩টি ও ষান্মাষিক ০১ টি রাখা হয়। অত্র গ্রন্থাগারে দৈনিক প্রথম আলো, সাপ্তাহিক রোববার ও সাপ্তাহিক গেজেটিয়ার বাঁধাই করে সংরক্ষণ করা হয়। এ গ্রন্থাগারের দৈনিক পাঠক উপস্থিতি গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন। এ গ্রন্থাগারে অনেক পুরাতন ও দু®প্রাপ্য পুস্তকাদি ও প্রাচীন পদ্মপুরাণ, গোবিন্দ কথামৃত এবং হিরণ্যকশিপুর শীর্ষক তিন খন্ড হস্তলিখিত পান্ডুলিপি রয়েছে।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter